পার্বত্য জেলা পরিষদে ৯৩% মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও ৬ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


মেহেদী হাসান    |    ০২:৪৭ পিএম, ২০২৬-০৭-২৭

পার্বত্য জেলা পরিষদে ৯৩% মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও ৬ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগসমূহে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতসহ ৬ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রাঙামাটির বনরূপাস্থ আয়োজন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোট রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মো. কামাল উদ্দিন, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মজুমদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম রুবেল, সদস্য মো. ইউসুফ আলীসহ সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার মাধ্যমে বৈষম্যমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জেলা পরিষদ আইনে নির্দিষ্ট কোটা নয়, বরং সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কেবল অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ২৩ জুলাই ২০২৪ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নীতিই পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগেও অনুসরণ করতে হবে বলে তারা দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট তাদের ৬ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো—

১. আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত সকল বিভাগের নিয়োগে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে অবিলম্বে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

২. নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে মানসম্মত প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে।

৩. পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত প্রশ্নপত্র জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সরকারি ট্রেজারিতে সংরক্ষণ এবং পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

৫. নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল নীতিমালা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে।

৬. শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর, নাম, পিতার নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যার পর বৈষম্যমূলক কোটার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তাই আর বিলম্ব না করে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনগত ব্যাখ্যার পরও যদি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় টালবাহানা বা কালক্ষেপণ করে, তাহলে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট পাহাড়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।